Image description

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নে শাশুড়ীকে নিয়ে জামাই পালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর তারা পুনরায় এলাকায় ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় বইছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সদর উপজেলার পশ্চিম পাঁচখোলা এলাকার আউয়াল মাতুব্বরের ছেলে পিকআপ চালক রাহুল মাতুব্বরের সঙ্গে একই এলাকার প্রবাসী মনির মাতুব্বরের মেয়ে তামান্নার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। উভয় পরিবারের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় শাশুড়ী হোসনেয়ারা বেগমের যাতায়াত ছিল নিয়মিত।

অভিযোগ রয়েছে, এই যাতায়াতের সুবাদে জামাই রাহুলের সঙ্গে শাশুড়ী হোসনেয়ারার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জেরে গত দুই সপ্তাহ আগে তারা দুজনে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তারা পুনরায় রাহুলের বাড়িতে ফিরে আসলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় নিজের স্বামী ও মাকে একসাথে ফিরে আসতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী তামান্না। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে তামান্নার বাবা প্রবাসী মনির মাতুব্বর তিন দিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত সব অর্থ তিনি স্ত্রী হোসনেয়ারার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি সামাজিকভাবে অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয়। বর্তমানে মা ও মেয়েকে একই ঘরে থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর