পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে নৌ-পথে চুরি ও ডাকাতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী। ডাকাত ও চোরদের যাতায়াত পথ বন্ধ করতে স্বেচ্ছাশ্রমে গুমানি নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া দিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু করে তিন দিন ধরে গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে নদীতে এই বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেন। তবে নৌ-চলাচল সচল রাখতে দিনের বেলায় যাতায়াতের জন্য বেড়ার একটি নির্দিষ্ট অংশ খোলা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেতুয়ান গ্রাম থেকে দুটি মহিষ ও একটি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার অষ্টমণিষা বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি এবং আরও কয়েকটি স্থানে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুর্বৃত্তরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে গুমানি নদী দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। নৌ-পথের এই নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে নদীতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।
গ্রামের বাসিন্দা তানজু শেখ ও রুমান উদ্দিন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কে ছিলেন। রাতের অন্ধকারে নৌকা নিয়ে চোরেরা গ্রামে ঢোকার ভয় পেতেন। এখন বেড়া দেওয়ার ফলে তারা অনেকটা নিরাপদ বোধ করছেন।
দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম সজীব খাঁন জানান, গ্রামের মানুষ নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাতের বেলা স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজ করেছেন। দিনে সাধারণ মানুষের নৌকা চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য বেড়ার একটি অংশে যাতায়াতের পথ রাখা হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "নৌ-পথে গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সেই আতঙ্ক থেকেই তারা নদী বরাবর এই বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। দিনের বেলায় নৌকা চলাচলে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে গ্রামবাসী নজরদারি রাখছেন।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments