Image description

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নৈশকালীন তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মো. লিয়ন (২৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। লিয়ন হালুয়াঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিনের ছেলে।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর একটার দিকে হালুয়াঘাট মধ্যবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে হালুয়াঘাট পৌরসভার পাগলপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম ইজাউল হক ভূঁইয়া (৪৩)। তিনি হালুয়াঘাট থানায় কর্মরত। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, হালুয়াঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিনের ছেলে মো. লিয়ন (২৮) ওই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করেছেন। ঘটনার পর লিয়ন পালিয়ে যান। পরে আজ শুক্রবার বেলা একটার দিকে তাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে গতকাল রাতে তার বাবা রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে হালুয়াঘাট পৌরসভার পাগলপাড়া এলাকা তল্লাশিচৌকি বসায় পুলিশ। একজন সহকারী উপপরিদর্শকসহ (এএসআই) তিনজনের দলটি চোরাচালান প্রতিরোধে তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করছিল। রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি মোটরসাইকেলকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। গভীর রাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের চলাচল নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান মো. লিয়ন। কেন তার মোটরসাইকেল থামানো হলে—এ নিয়ে পুলিশের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। ঘটনাস্থলের পাশেই লিয়নদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবার কাছে বিষয়টি জানান পুলিশ সদস্যরা। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশ সদস্যের পিঠে দা দিয়ে কোপ দেন তিনি। পরে পুলিশ সদস্যকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

পুলিশকে কুপিয়ে আহত করার পর পালিয়ে যান লিয়ন। পরে অভিযান পরিচালনা করে লিয়নের মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তার বাবা রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত লিয়নকে আজ বেলা একটার দিকে হালুয়াঘাট মধ্যবাজার থেকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।