Image description

প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়াই শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। তবে এবার পোস্টার না থাকায় সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের চিরাচরিত জৌলুস ও আমেজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

সরেজমিনে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচারণার কয়েক দিন পার হলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কোনো উদ্দীপনা নেই। দেয়ালে বা রশিতে ঝোলানো ডিজিটাল বা কাগজের পোস্টার না থাকায় অনেক ভোটার এখনো জানেনই না তাদের এলাকায় কারা প্রার্থী হয়েছেন।

বিয়ানীবাজার পৌরশহরের উত্তর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সফিক বলেন, “পোস্টার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন কেমন যেন ফ্যাকাসে লাগছে। কে দাঁড়াইছে না দাঁড়াইছে কিছুই বুঝতে পারছি না। ভোটের প্রচারণার কোনো আমেজই নেই।”

অনলাইন বা ডিজিটাল প্রচারণার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কিচেন মার্কেটের সবজি বিক্রেতা ফারুক আহমদ ও চা বিক্রেতা বাছিত একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তারা জানান, প্রচার শুরু হলেও প্রার্থীর নাম বা চেহারা চেনার কোনো উপায় নেই।

শফিকুল ইসলাম নামের এক ভোটার বলেন, “অনলাইনে প্রচারণা হচ্ছে শুনছি। কিন্তু সবার কাছে তো স্মার্ট ফোন নাই। আমার এলাকায় কে ভোটে দাঁড়িয়েছে আমি চিনতে পারছি না।”

এবার প্রচারণার ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহারের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল শব্দসীমায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের টমটম চালক জমির বলেন, “পোস্টার থাকলে অন্তত প্রার্থীর চেহারা আর মার্কা দেখে চেনা যেত। এখন বুঝতেছি না কারে ভোট দিমু। পোস্টার না থাকলে আমরা প্রার্থী চিনমু ক্যামনে?”

ষাঠোর্ধ্ব মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, “জীবনের অনেক ভোট দেখেছি, কিন্তু এমন আমেজহীন নির্বাচন আর দেখিনি। প্রচারণা শুরু হয়েছে কি না কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। পোস্টার ছাড়া নির্বাচন খুবই খারাপ লাগছে।”

নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোর হওয়ার কারণে এবার প্রার্থীরা মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ছোট ছোট পথসভার ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে সাধারণ ভোটারদের মতে, পোস্টারবিহীন এই প্রচারণা ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি করেছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের আমেজ কমিয়ে দিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর