ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ভোটের মাঠের লড়াই এখন রাজপথ ছাপিয়ে আদালতের আদালতে গিয়ে ঠেকেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া না-পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে, যার দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেবিদ্বারবাসী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে বৃহস্পতিবার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। আগামীকাল রোববারের কার্যতালিকায় আবেদনটি ১০৩ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। এই দিনই নির্ধারিত হবে বিএনপির এই হেভিওয়েট নেতা ভোটের লড়াইয়ে ফিরতে পারবেন কি না।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন ওই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তবে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট সেই রিট সরাসরি খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
এদিকে দেবিদ্বারের নির্বাচনী মাঠ বর্তমানে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর অনুসারীদের দখলে থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ‘অপেক্ষা’ কাজ করছে।
স্থানীয়দের মতে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী যদি আইনি লড়াইয়ে জিতে ফিরে আসেন, তবে এই আসনে দ্বিমুখী এক তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে। অন্যথায় মাঠের সমীকরণ অনেকটাই একতরফা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিগত কয়েক দিন ধরে দেবিদ্বারের অলিতে-গলিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন আদালতপাড়া। বিএনপি সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের একাংশ প্রিয় প্রার্থীর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকলেও অপর পক্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। রোববারের রায় কেবল একজন প্রার্থীর ভাগ্য নয়, বরং পুরো দেবিদ্বার আসনের নির্বাচনী গন্তব্য নির্ধারণ করে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে রোববার আদালতের রায়ে মুন্সী নির্বাচন থেকে ছিটকে গেলে, হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন (ট্রাক প্রতীক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার (আপেল প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুল করিম (হাতপাখা প্রতীক)।




Comments