Image description

‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি ২৯৯ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সাধারণ ভোটাররা প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান। প্রার্থীরা জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নির্বাচিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসন নিশ্চিত করার শপথ পাঠ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির জুঁই চাকমা এবং গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার বাদশা।

ভোটারদের প্রশ্নের জবাবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা বলেন, “আমরা সুশাসনের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও বস্ত্রের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া মাদক নির্মূল করে যুব সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা হবে।”

বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে পাহাড় থেকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল করব। এছাড়া কৃষকদের সুবিধার্থে হিমাগার স্থাপন এবং সার সংকট নিরসনে কাজ করব।”

জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই বড় কথা। নির্বাচিত হলে রাঙ্গামাটিকে একটি আধুনিক শহর এবং উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলব। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে দক্ষ চিকিৎসক নিশ্চিত করা হবে।”

বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, “পর্যটন খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে পাহাড়ের সমস্যাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান করা হবে।” 

তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে খুন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিচার হবে। চাকরিতে কোনো স্বজনপ্রীতি বা ঘুষ চলবে না, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে পাহাড়ের উন্নয়নে কাজ করার এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর