Image description

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের ৮৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ (গুরুত্বপূর্ণ) এবং ৫০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পুলিশের এই তালিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিস্ময় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা কেন্দ্রগুলোর অনেকটিরই অবস্থান থানা থেকে খুব কাছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মগধরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের একটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে গিয়ে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দেখা যায়নি। কেন্দ্রটি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। থানা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরের এই কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সীমানা প্রাচীর থাকলেও কেন এটিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, অতীতে এখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

একই চিত্র দেখা গেছে হারামিয়া ইউনিয়নের কাছিয়াপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সন্দ্বীপ থানা থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরের এই কেন্দ্রটিতে ১২টি বুথ ও ৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এটি আওয়ামী লীগ নেতা মাঈন উদ্দিন মিশনের বাড়ির সামনের কেন্দ্র। 

এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই কেন্দ্রে বিগত নির্বাচনগুলোতে কোনো সহিংসতার রেকর্ড নেই। তালিকার বাকি ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়েও একই ধরণের প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বিষয়ে বিএনপির সদস্য সচিব ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আলমগীর ঠাকুর ‘মানবকণ্ঠ’কে বলেন, “এসব কেন্দ্রগুলো মূলত বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে মা-বোনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে তারা যেন ভোটকেন্দ্রে না আসে, সেই উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি অপকৌশল।”

এ বিষয়ে জানতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ওয়াহিদুল আলমকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

থানার কাছাকাছি ও শান্তিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণার কারণ জানতে চাইলে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদ নূর ‘মানবকণ্ঠ’কে বলেন, “কেন কেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ আমার জানা নেই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে অধিক ঝুঁকিপূর্ণসহ সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি যেন কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর