মাদারগঞ্জে ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩ কর্মীর জেল ও জরিমানা
জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিলি করার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর তিন কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—মেলান্দহ উপজেলার ছবিলাপুর এলাকার জাহাঙ্গীর ইসলাম (৪৫), জহুরুল ইসলাম (৫০) ও মেহেদী হাসান (৩০)। তাঁরা সবাই ‘কাঁচ-পিরিচ’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভর কর্মী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভর পক্ষে ওই তিন কর্মী গোলাবাড়ি এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বিতরণ করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা তাঁদের ধাওয়া করে আটক করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও প্রার্থীর প্রচারপত্র জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাঁখের আহমেদ জানান, টাকা বিতরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয় এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হয়।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুমন চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এ ধরনের কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।”
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “টাকা বিলি করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে আটক তিনজনকে আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগেও উক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছিল। নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments