Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রায় দেড় লাখ ব্যালট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সংসদীয় আসনের তুলনায় গণভোটের ব্যালট বাতিলের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচটি আসনে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩৮টি ব্যালট বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের কাছে গণভোটের এত বিপুল সংখ্যক ব্যালট বাতিল হওয়ার বিষয়টি ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট বাতিল হওয়া ব্যালটের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে অবৈধ ভোটের সংখ্যা ২৪ হাজার ৯৬৩টি। অন্যদিকে, গণভোটের ব্যালট বাতিল হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৫টি। অর্থাৎ সংসদীয় ব্যালটের চেয়ে গণভোটের ব্যালট বাতিলের হার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

আসনভিত্তিক চিত্র:

গাজীপুর-১: এই আসনে সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ৫৮৬টি গণভোটের ব্যালট বাতিল হয়েছে। সংসদীয় ব্যালট বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ৭৫০টি।

গাজীপুর-২: সংসদীয় ব্যালট বাতিল হয়েছে ৮ হাজার ৪৮১টি এবং গণভোটের ব্যালট বাতিল হয়েছে ১৯ হাজার ৬৬০টি।

গাজীপুর-৩: এখানে সংসদীয় ৮ হাজার ২৮০টি ব্যালট বাতিল হলেও গণভোটের ক্ষেত্রে তা ছিল ২৮ হাজার ৪৪১টি।

গাজীপুর-৪: সংসদীয় ৪ হাজার ৩৫৫টি এবং গণভোটে ১৭ হাজার ৯০৯টি ব্যালট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজীপুর-৫: সংসদীয় ৪ হাজার ৩৭৭টি এবং গণভোটের ১৮ হাজার ২৭৯টি ব্যালট বাতিল হয়েছে।

গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রার্থীর নির্ধারিত প্রতীকে সঠিকভাবে সিল না মারা এবং সিল ছাড়া ব্যালট বাক্সে ফেলার কারণে সংসদীয় ভোট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে, গণভোটের ব্যালটের ক্ষেত্রে ঘোষণাপত্র না থাকা, নির্ধারিত স্থানে সিল না থাকা, স্বাক্ষর এবং ভেরিফিকেশনের অভাব থাকায় বিপুল পরিমাণ ভোট অবৈধ হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ভোররাতে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে ব্যালট বাতিলের এই বিপুল সংখ্যা নিয়ে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর