Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতা-কর্মীদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না করে এখনই, এর পরিণতি ভয়াবহ রকমের হবে।

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে পড়ার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি। 

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে ওই ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমিই সবচেয়ে আগে ফুল দেব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা গেলো যে বিএনপির কিছু লোক রীতিমতো হামলা চালায় আমার নেতা-কর্মীদের ওপর। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যেহেতু দীর্ঘ ১৫ বছর, একটা লম্বা সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা নানানভাবে চাপে ছিল, লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে; তারা যখন এরকম একটা ভয়ঙ্কর হিংস্রতা নিয়ে রাজনৈতিক পদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে, এটা আমার মনে হয় দলের উঁচু পর্যায় থেকে বিষয়টি মনিটর করা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, এটা দলের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর হবে। সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। সরকার মাত্রই এসেছে। আমি আশা করব বিএনপি সরকার এবং দল হিসেবে এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে।’

বিএনপির সাবেক এই নেত্রী আরও বলেন, ‘এ হামলাটি একেবারেই পরিকল্পিত। গুন্ডা প্রকৃতির একটা লোকের (আনোয়ার হোসেন) নেতৃত্বে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে হামলা চালায়। তাদের পরাজয় মেনে নেওয়ার একটা কষ্ট আছে। আমি স্বতন্ত্র জিতে গেছি। ওনারা কোটি কোটি টাকার লেনদেন করেও পারেন নাই।’

এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। ওই সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর জেরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁর সমর্থকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।