পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাষা সৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চ ভেঙ্গে একই স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে পাবলিক টয়লেট। এ পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পর তা ভেঙ্গে পুনরায় মঞ্চ নির্মাণ অথবা পাশে একই নামে একটি মঞ্চ নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও গত তিন বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা যায়, ৭০ এর দশকে পাবনার ঈশ্বরদী পুরাতন বাস টার্মিনালে রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মাণ করা হয় মুক্ত মঞ্চ। নামকরণ করা হয় ‘ভাষা সৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এ মঞ্চ। পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এ মুক্ত মঞ্চেই অনুষ্ঠিত হতো। এজন্য ঈশ্বরদীর মানুষের আবেগ, অনুভূতি, পুরানো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এ মঞ্চকে ঘিরে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ শাহ সূফির নেতৃত্বে এ মঞ্চসহ আশপাশের বেশকয়েকটি দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মঞ্চ না ভাঙ্গার অনুরোধ জানালেও তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভাষা সৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চের স্থানে আধুনিক পাবলিক নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি সেই আধুনিক পাবলিক টয়লের উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসিম কুমার তালুকদার। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদসহ রেলওয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে সে অনুষ্ঠানে ঈশ্বরদীর কোনো জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত হননি।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভাষা সৈনিক মাহবুব আহমেদ খানের নামে নির্মিত মুক্ত মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ঝড় ওঠে। পরের দিন ৯ ফেব্রুয়ারি মঞ্চ ভাঙ্গার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীর সচেতন যুবসমাজের ব্যানারে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশে বক্তারা দ্রুত মঞ্চ নির্মাণ করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মঞ্চ পুণঃনির্মাণের দাবি জানান। এতে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেননি। বরং ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষা সৈনিকের নামে তৈরি মঞ্চের স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এতে আরও বেশি ক্ষুদ্ধ হন সকল স্তরের মানুষ। তারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।
ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ঈশ্বরদী শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজারের সামনে রেলওয়ে টিকেট কাউন্টারের পাশে ঈশ্বরদীর ভাষা সৈনিক মাহাবুব আহমেদ খানের নামে নির্মাণ করা মুক্ত মঞ্চ। এখানে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রতিনিয়ত হতো। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভাষা শহীদের নামে তৈরি মঞ্চ ভেঙ্গে এখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। তা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কোন নেতা বা জনপ্রতিনিধি এ ব্যাপারে কোন প্রতিবাদ করেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার ছিল। আমরা ঈশ্বরদীবাসী একই স্থানে আবারো মঞ্চ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা চাই নতুন সরকার এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, ভাষা সৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চে একসময় ঈশ্বরদীর সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতো। সামাজিক- সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের কাছে এ মঞ্চ ছিল সবচেয়ে প্রিয়। হঠাৎ এখানে মঞ্চ ভেঙ্গে পাবলিক টয়লেট করা হয়েছে। আমাকে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মানুষ তাদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমি অবশ্যই ঈশ্বরদীতে একটি মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।




Comments