Image description

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ার ঘটনায় আনন্দ মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৪) নিহতের ঘটনায় ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো; রাম বালকের ছেলে বিশাল (১৪), নারায়ণের ছেলে রাজ (১৩), মুন্নার ছেলে বিশাল (১৪) ও বিপুল (১৬), জগদীশের ছেলে দেবরাজ (১৪) এবং জিতেনের ছেলে হৃদয় (১৫)। তারা সবাই নগরের জেলখানার চর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, শনিবার ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা শাওন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনিবার ৮ টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।

পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন রাত আটটার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

পুলিশ ও নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে নগরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাশে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাত সদস্যের একটি ছিনতাইকারী দল তাদের ঘিরে ধরে টাকা দাবি করে।

নৌকা ভাড়া ছাড়া আর টাকা নেই জানালে তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শাওন প্রতিবাদ করলে হামলা আরও বাড়ে। পরে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা ধাওয়া করলে রিয়াদ নদে নেমে এক বালু শ্রমিকের কাছে আশ্রয় নেন। শ্রমিকেরা বিষয়টি বুঝতে পেরে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

তবে ঘটনার পর থেকে শাওন নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা ব্রহ্মপুত্র নদের চরে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে সেখান থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নূরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম (মৃত)।