সংবর্ধনা বর্জন করে সেবার অঙ্গীকার নিয়ে হাসপাতালে এমপি মুজিবুর রহমান
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী শপথ গ্রহণের পর জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা বা রাজনৈতিক কর্মসূচি এড়িয়ে এক ব্যতিক্রমী নজির গড়লেন। ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেই তিনি কোনো পথসভা বা মিছিলে না গিয়ে সরাসরি ছুটে গেছেন স্থানীয় হাসপাতালে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে স্বাস্থ্যসেবাকে বেছে নেওয়া এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছে পূর্বনির্ধারিত সকল সংবর্ধনা ও পথসভা বাতিল করেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে এলাকায় ফেরার পথে নেতাকর্মীদের ভিড় এড়িয়ে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে একাই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। শয্যাশায়ী রোগীদের হাত ধরে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। পরিদর্শনকালে তিনি রোগীদের মাঝে পুষ্টিকর দুধও বিতরণ করেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে হাসপাতালের জনবল সংকট, শয্যাস্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবসহ নানা সীমাবদ্ধতার কথা উঠে আসে। বিশেষ করে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে পুরো এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর সেবা দেওয়ার চ্যালেঞ্জের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন তিনি।
মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “এই এলাকার মানুষের ভালোবাসায় আমি নির্বাচিত হয়েছি। তাই আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে তাঁদের সেবার মান নিশ্চিত করাই আমার কাছে বড় অগ্রাধিকার। জনসমাগমে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হতে পারে বলেই আমি সব পথসভা বাতিল করেছি। আমি চাই না আমার কারণে জনগণের বিন্দুমাত্র কষ্ট হোক।”
তিনি আরও জানান, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানো, শয্যা বৃদ্ধি এবং অ্যাম্বুলেন্স সংকট দূর করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতেও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই কোনো আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা না নিয়ে সরাসরি জনসেবায় নেমে পড়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল একটি পরিদর্শন নয় বরং আগামীর সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার গড়ার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments