Image description

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক মাদরাসা উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর পুত্রবধূ ও তিন বছরের শিশু নাতনিকে হাত-পা বেঁধে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মাওলানা মো. খলিলুর রহমান উপজেলার পোনাহুড়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ এবং একজন সরকারি কাজী হিসেবে কর্মরত।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের নুরনাইনপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ রিমা আক্তার (২২) ও তাঁর তিন বছরের কন্যাসন্তানকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে রিমার স্বামী এম এ আবু বকর পলাতক রয়েছেন।

আহত রিমা আক্তার জানান, প্রায় চার বছর আগে মাওলানা খলিলুর রহমানের ছোট ছেলে আবু বকরের সঙ্গে তাঁর প্রেমজ সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়ে হয়। এই বিয়ে মেনে নেননি শ্বশুর খলিলুর রহমান। এর জের ধরে দীর্ঘ দিন ধরে পরিবারে কলহ চলে আসছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছিল।

রিমার অভিযোগ, শনিবার বিকেলে তাঁর শ্বশুর ও স্বামী তাঁকে এবং তাঁর শিশুকন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে একটি চলন্ত অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক রাস্তায় ফেলে দেয়। এতে তাঁরা দুজনেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী রিমা আক্তার ঢাকার ধানমন্ডির ড. মালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা এবং এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাওলানা খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর