Image description

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলখ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি এখন নিজেই যেন ‘রোগাক্রান্ত’। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার বদলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দুর্গম হাওর এলাকার হাজারো মানুষ।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি সেবার মান। বর্তমানে মাত্র দুইজন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করছে পুরো উপজেলার চিকিৎসাসেবা। ১০৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ থাকলেও অধিকাংশ পদই শূন্য। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদের অনেকেই নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসক ও স্টাফদের জন্য আধুনিক আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হলেও সেখানে কেউ বসবাস করেন না। ফলে রাতের বেলা জরুরি প্রয়োজনে কোনো চিকিৎসককে না পাওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এমবিবিএস চিকিৎসকের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারি ফার্মাসিস্ট সুভাষ চন্দ্র সরকারই রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

চিকিৎসা সরঞ্জামের অবস্থাও করুণ। হাসপাতালের ল্যাব, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও জনবল ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেগুলো অকেজো পড়ে আছে। সামান্য একটি এক্স-রে করার জন্য রোগীদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে নেত্রকোনা জেলা শহরে যেতে হয়, যা হাওরবাসীর জন্য সময় ও অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আরিফিন আজিম বলেন, "আমি যোগদানের পর থেকেই দেখছি জনবল সংকট এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। ভবন বাইরে থেকে সুন্দর দেখা গেলেও ভেতরের বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। আমি চাই দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ হোক এবং সব স্টাফ নিয়মিত উপস্থিত থেকে সেবার মান নিশ্চিত করুক।"

হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মানবকণ্ঠ/ডিআর