Image description

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বেথুলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ঘুমন্ত একটি পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সাহ্‌রি খেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এ হামলা চালানো হয়। এতে একটি ঘরে অগ্নিসংযোগসহ একই পরিবারের ১৪ জনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বেথুলিয়া খোন্দকার পাড়ায় প্রায় ১৮ একর জমি নিয়ে স্থানীয় মিয়া পাড়ার সৈয়দ জাবেদ আলীর সঙ্গে খোন্দকার পাড়ার মৃত জলিল শেখের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এই জমিতে নতুন একটি ঘর তুলে জলিল শেখের ছেলেরা বসবাস শুরু করলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা এবং থানায় একাধিক সালিস বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

আহত ইদ্রিস শেখ জানান, সোমবার ভোরে তারা সাহ্‌রি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামসুল হক সূর্যের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে নতুন বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘুমন্ত নারী-পুরুষদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।

আহতদের মধ্যে আব্দুল বারেক শেখ (৫০), ইদ্রিস শেখ (৪০), কুদ্দুস শেখ (৩০), আতর আলী শেখ (৫৫), শাহিন (৩৬) এবং হাসি বেগমসহ (৪৫) অন্তত ১৪ জন জলিল শেখের পরিবারের সদস্য। অন্যপক্ষে সৈয়দ শামসুল হক সূর্যের পরিবারেরও ৩-৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, "আহতদের অধিকাংশেরই হাড় ভেঙে গেছে এবং শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। আতর শেখের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে।"

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এর ভেতর থেকে তখনো আগুনের শিখা বের হচ্ছিল। অভিযুক্ত সৈয়দ শামসুল হক সূর্যকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি, তবে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, ওই জমি তারা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত এবং অন্য পক্ষ তা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, "জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উভয় পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই মামলা রয়েছে। আজকের ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর