Image description

মাদারীপুরে গত ২০ দিনে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আধিপত্য বিস্তার, পুরনো বিরোধ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে একের পর এক সহিংসতায় মাদারীপুর শহর যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ২০ দিনে অন্তত তিন শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ করছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে সবুজবাগ ও বটতলা এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে এই সহিংসতার শুরু। সে সময় দোকানপাট ভাঙচুর ও অন্তত ৫০টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়।

সহিংসতার ধারা অব্যাহত থাকে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতেও। ওইদিন সদর থানার সন্নিকটে হরিকুমারিয়া এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে নতুন মাদারীপুর এলাকায় পুনরায় শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ইফতারের সময় চরমুগরিয়া এলাকায় সাবেক মেম্বার জসিম মোল্লা ও পান্নু ব্যাপারীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এর কিছুক্ষণ পরই সোনালী পরিবহনের এক চালক ও তার স্ত্রীকে মারধরের জেরে ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোড ও পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাণ্ডব চালায় এবং ১৫-২০টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

এসব ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই মাদারীপুরের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তুলনা করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে দোকান খুলছি। কখন কোথায় বোমা পড়ে তার কোনো ঠিক নেই। দ্রুত কিশোর গ্যাং বন্ধ না হলে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আধিপত্য বিস্তার ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, মাদারীপুরে শান্তি ফেরাতে এবং এই ‘বোমা সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর