Image description

চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় শিল্পগোষ্ঠী স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে পুলিশি পাহারার মধ্যেই দুঃসাহসিক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর দাবি করা কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে তার অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারিও ওই একই বাসায় গুলি চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। সেই ঘটনার পর থেকে বাসাটিতে পুলিশের স্থায়ী পাহারা বসানো হয়। তবে আজ সকালে পুলিশের উপস্থিতিতেই চারজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুনরায় হামলা চালানোয় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আজ সকালে নামাজ পড়ে পরিবারের সবাই যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বাসার পেছনের দিক থেকে ৬-৭ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখোশ পরা চারজন সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে বাসার সামনে আসে। তাদের একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল, একজনের হাতে সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একজনের হাতে চায়নিজ রাইফেল এবং অন্যজনের হাতে শটগান ছিল। তারা কিছুক্ষণ বাসার জানালা ও দরজা লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পাহারায় থাকা পাঁচ-ছয়জন পুলিশ সদস্য গুলি করার প্রস্তুতি নিলেও তার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ প্রথমে ১০ কোটি ও পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ২০ দিন আগে সে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে বার্তা পাঠিয়েছিল। আজ সেই হুমকিরই প্রতিফলন ঘটল।’

ঘটনার খবর পেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করে এলাকায় এসেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হান ও বোরহান এই হামলায় সরাসরি জড়িত। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ২ জানুয়ারির ঘটনার পর কোনো মামলা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘মামলা করে কী হবে? পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থাতেই যখন গুলি হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’

নগরের অপরাধ জগতে ‘বড় সাজ্জাদ’ বা ‘সাজ্জাদ খান’ হিসেবে পরিচিত এই সন্ত্রাসী দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বাইরে বসে তার বিশাল গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করছেন। ১৯৯৯ সালে কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খুন এবং ২০০০ সালে বহদ্দারহাটে চাঞ্চল্যকর ‘এইট মার্ডার’ (আট খুন) মামলার প্রধান আসামী হিসেবে তার নাম উঠে আসে। ২০০৪ সালে দেশ ছেড়ে পালানোর পর বর্তমানে তিনি ইন্টারপোলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার আসামি।

পুলিশের তথ্যমতে, সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন প্রশিক্ষিত শুটার রয়েছে। তার বাহিনীর ভয়ে চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং হাটহাজারী ও রাউজানের ৫ লাখের বেশি মানুষ তটস্থ থাকে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি খুনের ঘটনায় এই বাহিনীর নাম এসেছে। বর্তমানে সাজ্জাদের বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে ১৫ মামলার আসামি মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন ইমন। 

তবে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে সাজ্জাদ আলী এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘গুলি কে করেছে আমি জানি না।’

মানবকণ্ঠ/ডিআর