Image description

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ছোট আন্ধারমানিক বটতলা এলাকায় গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সবাই স্থানীয় আন্ধারমানিক সোনাকুড় এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে মিজান শেখের গ্যারেজ, প্রশান্ত মৃধার টেইলার্স, বাদশা শেখের মুদি দোকান, সিরাজুল শেখের ফিড মিল, কাইউম ব্যাপারীর মুদি দোকান, আলামীন শেখের মুদি ও ইলেকট্রনিক্স দোকান এবং আশিস মৃধার মুদি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নেয়। ফায়ার সার্ভিসের এই বিলম্বের কারণেই ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ নিয়ে রাতেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এছাড়া কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও কম্বল বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, এটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর