বড়লেখায় আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে রেলওয়ের ভূমি দখলের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) অমান্য করে রেলওয়ের লিজকৃত ভূমি জবরদখল ও মার্কেট নির্মাণের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বড়লেখা পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এবাদুর রহমান এবাদ। এর আগে একই কায়দায় তিনি আরেক লিজ গ্রহীতার ভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়লেখা রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর-পশ্চিম দিকে সরকারি খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ৩২৫ নম্বর দাগের ৪৬ শতক রেলওয়ের ভূমি লিজ নিয়ে দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে বারইগ্রাম এলাকার করিমা পারভিনের পরিবার। ২০২৪ সালের শুরুতে জনস্বার্থে ও সবজি বাজার স্থানান্তরের লক্ষে পৌর কর্তৃপক্ষের মাটি ভরাট ও বাজার উদ্বোধনে সম্মতি দেন লিজ গ্রহীতা। তবে জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌর মেয়র আত্মগোপনে চলে গেলে বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। এই সুযোগে বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান এবাদ ও তার সহযোগীরা ভূমিটি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন।
জানা গেছে, উক্ত ভূমির মালিকানা নিয়ে মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতে (বড়লেখা) করিমা পারভিনের দায়ের করা একটি স্বত্ব মামলা (১৪৮/২০১৫) চলমান রয়েছে। আদালত উক্ত ভূমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিলেও তা অমান্য করে গত ২৫ জানুয়ারি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে টিনশেড ঘরের খুঁটি পোঁতা শুরু করেন এবাদ। লিজ গ্রহীতা করিমা পারভিন বাধা দিতে গেলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
করিমা পারভিন বলেন, "আমার বাবা মৃত আব্দুল মন্নান এই জমি রেলওয়ের কাছ থেকে ৯৯ বছরের স্থায়ী লিজ নিয়েছিলেন। আদালত এই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এবাদ তা দখল করতে চাইছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি, এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান এবাদ বলেন, "এই ভূমি আমাদের মৌরসি সম্পত্তি। আদালতে মামলা ও স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে। তবে পুলিশ এসে বাধা দেওয়ার পর বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে।"
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে একই কায়দায় আদালতের আদেশ অমান্য করে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানের লিজকৃত রেলওয়ের ভূমি দখল করে টিনশেড ঘর ও বাগান করার অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments