Image description

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এলজিইডির অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তার নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার ওপর বেড়া ও গাছের গুঁড়ি ফেলে কাজ আটকে দেওয়ায় সাতটি গ্রামের মানুষ এবং চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের গণকাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে পাইলাটি গ্রামের ৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার ২৭০০ মিটার (২.৭ কিমি) পাকাকরণের কাজ চলছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ অংশ সম্পন্ন হলেও গণকাপাড়া এলাকায় মাত্র ৩০ ফুট জায়গার জন্য পুরো কাজ থমকে আছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ’-এর স্থানীয় প্রতিনিধি লিটন মিয়া জানান, এলজিইডির সার্ভে অনুযায়ী পুরোনো মাটির রাস্তার ওপরই পাকাকরণ কাজ চলছিল। বেড তৈরি ও বালু ফিলিং শেষ করার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ মুমরুজ আলী নামের এক ব্যক্তি রাস্তায় বেড়া ও গাছের গুঁড়ি ফেলে কাজ বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুমরুজ আলী বলেন, "পাশেই হালটের জায়গা থাকা সত্ত্বেও আমার রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল, তাই আমি বাধা দিয়েছি।"

তবে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাকা করার আগে এই অংশ দিয়েই দীর্ঘকাল মাটির রাস্তা ছিল। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে অনেকেই জায়গা ছেড়ে দিলেও মুমরুজ আলী সামান্য জায়গার জন্য পুরো কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় চানখলা, গণকাপাড়া, ভূগী, পাইলাটি, ইয়ারন ও নারান্দিয়াসহ ৭টি গ্রামের মানুষের নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছে।

পূর্বধলা উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্ত বলেন, "গ্রামীণ রাস্তার নীতিমালা অনুযায়ী আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ চলবে। কেউ যদি কোনো অংশে বাধা প্রদান করেন, তবে সেই অংশ বাদ রেখে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর