Image description

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি এবং ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সরজমিনে দেখা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনগুলোর প্রতিটি কক্ষ ও আসবাবপত্রে ধ্বংসের চিহ্ন। ঢাকা ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখার ভল্টটি অক্ষত থাকলেও চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, এসি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একইভাবে ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক, পাশের তিনটি তুলার দোকান এবং চারটি তুলার গোডাউনের সমস্ত মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের শহীদ ডা. জিকুরুল হক রোডে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের ‘সৈয়দপুর তুলা ঘর’-এর পেছনের একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই লেলিহান শিখা পাশের একরামুল হক কটন শপ, ফেরদৌস কটন শপ, তাদের তুলার গোডাউন এবং দুই ব্যাংকের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর, উত্তরা ইপিজেড, পার্বতীপুর ও তারাগঞ্জসহ ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল পানির তীব্র সংকট। ফায়ার সার্ভিসের রিজার্ভ পানি শেষ হয়ে গেলে নিরুপায় হয়ে পাশের নর্দমার নোংরা পানি ব্যবহার করে আগুন নেভাতে হয়। এছাড়া উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণেও উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটে।

রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল হক বলেন, "পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নেভাতে আমাদের মারাত্মক বেগ পেতে হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে।"

ক্ষতিগ্রস্ত সৈয়দপুর তুলা ঘরের মালিক আকবর আলী জানান, এক মাস আগে ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা গুছিয়েছিলেন, যা এখন ছাই। ফেরদৌস কটন শপের মালিক ফেরদৌস খান আক্ষেপ করে বলেন, "সামনে ঈদের বাজার, এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।" তবে দুই ব্যাংকের ভল্টে থাকা নগদ টাকা অক্ষত রয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার পর সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা এবং সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. আব্দুল মুনতাকিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সৈয়দপুরের বিশিষ্ট সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু বলেন, "একসময় সৈয়দপুর শহরে ৫৪টি রেলওয়ে জলাশয় ছিল, যা আগুন নেভাতে প্রধান ভরসা ছিল। বর্তমানে অধিকাংশ জলাশয় দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপদ শহরের স্বার্থে এই জলাশয়গুলো উদ্ধার করা জরুরি।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর