বরগুনার বেতাগীতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে বেতাগী সরকারি কলেজ চত্বরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে এই পতাকা উত্তোলন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেতাগী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মুসার নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে জাতীয় পতাকা এবং ছাত্রলীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম বেতাগীতে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের কোনো তৎপরতা দেখা গেল।
পতাকা উত্তোলনের পর মেহেদী হাসান মুসা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ ৭ মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের ভাষণের দিন। আমি ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে বেতাগী সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের পতাকা উত্তোলন করলাম। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’
এ বিষয়ে জানতে মেহেদী হাসান মুসার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা এই কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ওপর ভিত্তি করেই এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই ভাষণের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই বেতাগী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।’
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেতাগীতে দলটির কার্যালয় ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি চব্বিশের পটপরিবর্তন ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা আবারও প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments