গাইবান্ধায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধে বিপাকে চাকরিজীবী ও চালকরা
গাইবান্ধা জেলা শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের (পেট্রোল ও অকটেন) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে শহরের প্রধান ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের মালিকরা। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবীরা পড়েছেন বিপাকে।
জেলা ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১৮টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৪টি, পলাশবাড়ীতে ৩টি, সুন্দরগঞ্জে ৩টি এবং গাইবান্ধা পৌরসভা এলাকায় ৫টিসহ অন্যান্য উপজেলায় আরও ৩টি স্টেশন রয়েছে। রোববার সকাল থেকে জেলা শহরের রহমান ফিলিং স্টেশন, এস এম কাদির এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন, গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশন, কদমতলী ফিলিং স্টেশন এবং পুলিশ লাইন এলাকার হাসনা হেনা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন জ্বালানির জন্য, কিন্তু কোথাও তেল মিলছে না। জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা যারা প্রতিদিন মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। তেল না থাকায় সময়মতো অফিসে পৌঁছানো এবং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আঃ আজিজ বলেন, "আমাদের স্টেশনে তেলের যা মজুত ছিল, তা গত রাত পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে মজুত না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।"
এস এম কাদির এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মন্জরুল ইসলাম কাদির জানান, তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় রবিবার থেকে বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "ডিপোতে তেল আনার জন্য গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে সেই গাড়ি কখন ফিরবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।"
জ্বালানি তেলের এই আকস্মিক সংকটে জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments