Image description

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শাহ আব্দুল করিমের জনপ্রিয় গানের সেই কথা- ‘গাড়ি চলে না, চলে না, চলে নারে’ এর আক্ষরিক প্রতিফলন এখন বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহের প্রতিটি সড়কে। প্রবীণ এই জেলা শহর, যা শিক্ষা ও চিকিৎসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, তা এখন কার্যত এক যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় বের হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে ইজিবাইক, রিকশা আর জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সের চাকার নিচে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের গবেষণায় বিশ্বের ২০টি ধীরগতির শহরের তালিকায় ময়মনসিংহ নবম স্থান অধিকার করে নেতিবাচক পরিচিতি পেয়েছিল। এরপর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি তো হয়ইনি, উল্টো যানজট আরও প্রকট হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের চাপে নগরজুড়ে ভয়াবহ যানজট দেখা দেয়। এদিন দিগারকান্দা বাইপাস থেকে চরপাড়া মোড় পর্যন্ত মোটরসাইকেলে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটেরও বেশি, যা স্বাভাবিক সময়ে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের পথ।

যানজটে আটকে থাকা এক ভুক্তভোগী আইনুল হক বলেন, "রোজার দিনে ছেলেকে নিয়ে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছি। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকা চরম যন্ত্রণাদায়ক।" সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় সাইরেন বাজিয়েও জটলা ভেদ করতে না পেরে অনেক মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স রাস্তায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নগরীর গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া, পাটগুদাম মোড়, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড় ও কাঁচিঝুলি এলাকায় এই ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।

ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয়দের মতে, ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা, ফুটপাত দখল এবং নগরের বুক চিরে চলে যাওয়া রেললাইনই এই সংকটের প্রধান কারণ। ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) গোলাম মওলা তালুকদার জানান, ৫ হাজার গাড়ির ধারণক্ষমতার রাস্তায় ৫০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করছে। তদুপরি রেললাইনের কারণে দিনে প্রায় ৮ ঘণ্টা ১০টি সংযোগ সড়ক বন্ধ থাকে।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "অবৈধ যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোকবল সংকট কাটাতে প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি, যাতে ঈদের আগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব হয়।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর