Image description

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে অমানুষিক নির্যাতন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দেওয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত। 

শনিবার (৭ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম এই আদেশ প্রদান করেন।

বর্তমানে কারামুক্ত মা ও মেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সরকারি ঘোনা এলাকার রেহেনা মোস্তফা রানু (৪২) ও তার মেয়ে চকরিয়া সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী জুবাইদা বেগম (২১)।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমারের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গেলে মা-মেয়েকে থানার একটি কক্ষে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। রেহেনা মোস্তফার অভিযোগ, এসআই পল্লবসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের লাথি ও ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে ফেলেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম থানায় এসে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেন।

ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, জুবাইদা তার বাবার পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার আদায়ে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার তদন্তভার পেয়ে এসআই পল্লব প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নামে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং পরে ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু ঘুষ নিয়েও জুবাইদার বিপক্ষে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন জমা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। বিষয়টি জানতে পেরে টাকা ফেরত চাইতে থানায় গেলে এই বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হন মা ও মেয়ে।

কারাগার থেকে মুক্তির পর রেহেনা মোস্তফা রানু কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ইউএনও সাহেব আমাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও কিছু না বলে সাজা দিয়ে দিলেন। আমাদের সামনে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া হয়নি। কারাগারে গিয়ে জানতে পারি আমাদের এক মাসের সাজা হয়েছে।”

এদিকে মা-মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি জুবাইদা ও তার মা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শিক্ষার্থী জুবাইদা ট্রমার কারণে কথা বলতে পারছেন না।

পেকুয়া থানা পুলিশ ও ইউএনও আগে পুলিশের ওপর হামলার দাবি করলেও আদালত সেই দণ্ড বাতিল করে তাদের নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল সাকিব জানান, মা-মেয়ের শরীরে জখমের বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।