কেশবপুরে গৃহবধূকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় স্বামীর অধিকার দাবি করতে গিয়ে সালমা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা কাবিনে বুড়িহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে ও কেশবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিকিউরিটি গার্ড মাসুদ রানার (৩৫) সঙ্গে একই গ্রামের আনসার শেখের মেয়ে সালমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই তাদের মধ্যে প্রায় এক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর থেকে একই গ্রামে বাড়ি হওয়ায় সালমা নিয়মিত স্বামীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
ভুক্তভোগী সালমা খাতুন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর মাসুদ রানা তার কাছ থেকে ধার হিসেবে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে শাশুড়ি হাজিরা খাতুনের প্ররোচনায় মাসুদ তাকে নিজের বাড়িতে স্থায়ীভাবে স্থান দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং দূরে সরিয়ে রাখে। এ নিয়ে ইতিপূর্বে তিনি কেশবপুর থানায় দুবার অভিযোগও করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে তার শাশুড়ি তাকে ডেকে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পর শাশুড়ি হাজিরা খাতুন, স্বামী মাসুদ রানা ও চাচা শ্বশুর হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন তাকে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন। স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে রশি দিয়ে বেঁধে উঠানে ফেলে বেধড়ক মারধর করে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কেশবপুর থানার এসআই সঞ্জয় কুমার দাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।
অভিযুক্ত স্বামী মাসুদ রানা নির্যাতনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমি অন্য একটি মেয়েকে ভালোবাসতাম। সালমা খাতুন কারসাজি করে আমাকে বিয়ে করেছে।’
কেশবপুর থানার এসআই সঞ্জয় কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সালমা খাতুন বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments