কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওরের একটি গোয়ালঘর থেকে রানা মিয়া (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রানা মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার হুমাইপুর (আনোয়ারপুর) গ্রামের আলফাজ মিয়ার ছেলে। তিনি গত কার্তিক মাস থেকে মৌসুমি চুক্তিতে অষ্টগ্রামের পাটাচাপড়া হাওরে নওশাদ আহম্মেদ ফারুকী মিয়ার মহিষ রাখাল হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের সহকর্মী তোতা মিয়া ও আক্তার হোসেন জানান, রোববার রাতে তারা সবাই একসাথে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে তোতা মিয়া ঘুম থেকে উঠে রানাকে বিছানায় না দেখে আক্তারকে জাগিয়ে তোলেন। পরে টর্চলাইট দিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গোয়ালঘরের ভেতরে আড়ার সাথে রানা মিয়াকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তারা।
খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে ছুটে আসেন নিহতের বাবা আলফাজ মিয়া। তিনি জানান, ভোরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর পান। পুলিশের কাছে দেওয়া অপমৃত্যুর আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এটি আত্মহত্যা হতে পারে আবার হত্যাও হতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।
অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments