সিরাজগঞ্জে কথিত ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা, ৩ মাসের কারাদণ্ড
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার হরিনা পিপুলবাড়ী বাজার এলাকায় কথিত ডাক্তার পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগে নাজমুল ইসলাম মিঠু নামে এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা, আইসিটি শাখা, তথ্য ও অভিযোগ শাখা) এহসান আহমেদ খান। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল ইসলাম মিঠু দীর্ঘদিন ধরে ‘মিঠু ডাক্তার’ নামে এলাকায় অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তিনি প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী দেখতেন এবং জনপ্রতি ফি নিতেন মোটা অংকের টাকা। এতে প্রতিদিন শুধু রোগী দেখার ফি বাবদই তার ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হতো।
অভিযুক্ত মিঠুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার নিজস্ব ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে রোগীদের বাধ্য করতেন। এতে প্রতিজন রোগীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি করা হতো। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র এই ফার্মেসি থেকেই তিনি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করতেন। দুটি কক্ষে রোগীদের জন্য বিছানা পেতে নিয়মিত চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন তিনি।
ভুক্তভোগী রহিমা বেগম নামে এক রোগী আক্ষেপ করে বলেন, “ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয় আমাদের মতো গরীবদের।” আলতাফ নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, বুকের ব্যথা নিয়ে গেলে মিঠু তাকে তার ফার্মেসি থেকে জ্বর ও মাথাব্যথার ওষুধ দেন। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে মিঠুর দেওয়া কয়েকটি প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নাজমুল ইসলাম মিঠু কোনো স্বীকৃত ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো প্রেসক্রিপশন লেখার বৈধতা তার নেই।
এ অপরাধে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০-এর ২২ ধারা অনুযায়ী তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments