Image description

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মাপে কম দেওয়ার অপরাধে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চার প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শমশেরনগর ও ভানুগাছ বাজারে বিএসটিআই-এর প্রতিনিধিদের সহায়তায় জেলা প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে—এমন গুজবে গত কয়েকদিন ধরে কমলগঞ্জের বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দোকানে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেক দোকানি তেল বিক্রি বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেল চালকদের কাছে আধা লিটার বা এক লিটারের বেশি তেল বিক্রি করছিলেন না। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার অভিযানে নামে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবিদ হোসেনের নেতৃত্বে শমশেরনগর চৌমুহনা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে কৈলাস প্রসাদ তেলীর পেট্রোলের দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দোকান খোলার পর দেখা যায়, সেখানে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। বিএসটিআই প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তেলের মাপ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, প্রতি লিটারে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। এই অপরাধে ওই দোকানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ভানুগাছ ও শমশেরনগর বাজারের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের দায়ে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবিদ হোসেন জানান, “জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা রোধে আমাদের মনিটরিং চলছে। শমশেরনগরের একটি প্রতিষ্ঠানে মাপে কম দেওয়ার হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চারটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, সরকারের পক্ষ থেকে তেলের দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর