Image description

মাদারীপুর পৌর শহরের লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার নতুন মাদারীপুরে শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আলমগীর হাওলাদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত আলমগীর হাওলাদার লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার হাফেজ হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার দুই গ্রুপের সমর্থকরা সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয় এবং উভয় পক্ষ এলাকাজুড়ে মহড়া দেয়। এরই জেরে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলমগীর হাওলাদারকে হাসান মুন্সির সমর্থকরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আবারও উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এসব সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচ দফায় প্রায় চার শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

এর আগে গত রোববার রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দফায় দফায় অর্ধশতাধিক হাতবোমা নিক্ষেপ করে। 

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের সংঘর্ষে হাসান মুন্সির ভাই শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বোমাবাজি ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সকালের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।”

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।