Image description

মাদারীপুরে চাঞ্চল্যকর শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আলমগীর হাওলাদার (৪৫) নামে এক ওয়াইফাই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিহিংসায় প্রতিপক্ষের অন্তত ২০টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নতুন মাদারীপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার ও নিহত শাকিলের ভাই হাসান মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হাসান মুন্সির সমর্থকরা আক্তার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারের বসতঘরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ লোকজন হাসান মুন্সির সমর্থকদের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ অন্তত ২০টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘরবাড়ি থেকে আসবাবপত্রের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গরু-ছাগলও লুটে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। বিক্ষুব্ধরা রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল, যা পুলিশ সরিয়ে দিয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর