Image description

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো খেজুর নিয়ে কুমিল্লায় সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় স্পষ্ট করেছে যে, কুমিল্লার জন্য ৫২০ নয়, বরং ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ ছিল। ফলে ২০ কার্টন খেজুর কম পাওয়ার যে খবর চাউর হয়েছিল, তা সঠিক নয়।

বুধবার (১১ মার্চ) জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সম্প্রতি বেশ কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে, সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার থেকে পাওয়া খেজুরের মধ্যে কুমিল্লার ২০ কার্টনের কোনো হিসাব মিলছে না। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও জেলা প্রশাসনের নথি বলছে ভিন্ন কথা।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী জানান, "গত ১ মার্চ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে কুমিল্লা জেলার অনুকূলে ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৮ মার্চ সকালে জেলা ত্রাণ গুদামে এই ৫০০ কার্টন খেজুর গ্রহণ করা হয় এবং ওই দিনই জেলার ১৭টি উপজেলার অনুকূলে তা উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এসব খেজুর এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হচ্ছে।"

গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুক লাইভে এসে তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের হিসাব দেন। সেই লাইভে তিনি জানান, দেবিদ্বার উপজেলার জন্য ৩৯ কার্টন খেজুর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার এই স্বচ্ছতামূলক বক্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো জেলার বরাদ্দের সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে দেওয়া ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুরের মধ্যে কুমিল্লার জন্য নির্ধারিত ৫০০ কার্টনের প্রতিটিই সঠিক গন্তব্যে পৌঁছেছে। কোনো কার্টন উধাও বা খোয়া যাওয়ার তথ্যটি কেবল তথ্যের অসামঞ্জস্যতার কারণে তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে জেলাজুড়ে এই রাজকীয় উপহার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই