Image description

রংপুরের তারাগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত দুই মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বগুড়া ও তারাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— তারাগঞ্জ উপজেলার জর্দ্দিপাড়া এলাকার মাজেদুল (৩২) এবং একই উপজেলার রাফিউর রহমান লাবলু (৩২)। লাবলুকে রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের সহায়তায় বগুড়ার গোকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল। নিখোঁজের দুই দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর রামপুরা এলাকার একটি আলু ক্ষেতে মনজুরুলের গলাকাটা ও মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জান্নাতি বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে এসআই কামরুলসহ পুলিশের একটি চৌকস দল মামলাটির তদন্তে নামে। গত শনিবার দুপুরে প্রথমে মাজেদুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (১৫ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে বগুড়া থেকে লাবলুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মনজুরুলের পরিবার। নিহতের পরিবার জানায়, মনজুরুলের আয়েই স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলের সংসার চলত। তার মৃত্যুতে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এবং পরিবারটি এখন তিনবেলা খাবারের জন্য চরম হিমশিম খাচ্ছে।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের রংপুর জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শীঘ্রই ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর