মাধবপুরে ধর্ষণচেষ্টা মামলা আপস না করায় পরিবারকে ‘একঘরে’ করার অভিযোগ, বাধা মসজিদেও
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলায় আপস করতে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগী একটি পরিবারকে সামাজিকভাবে ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরিবারের কর্তা ফারুক মিয়াকে স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী ফারুক মিয়া জানান, প্রভাবশালী মহলের অব্যাহত হুমকি ও সামাজিক বঞ্চনার প্রতিকার চেয়ে তিনি কয়েক দিন আগে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফারুক মিয়া উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ ফারুক মিয়ার শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৩)। মামলাটি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ফারুক মিয়াকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। বিশেষ করে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মিয়া ও তার সহযোগীরা এই মামলার আপস মীমাংসার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগী ফারুক মিয়ার দাবি, মামলায় আপস না করায় গত ৬ মার্চ তাকে মারধর করা হয় এবং ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রভাবশালী ওই পক্ষটি পুরো গ্রামকে তাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষকে তাদের সাথে কথা বলতে বা মেলামেশা করতে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি তাকে মসজিদে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া ও জাহার মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফারুক মিয়ার পরিবারকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। তাকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, “কাউকে একঘরে করা হয়নি। ফারুক মিয়া নিজেই ভালো মানুষ নন। এলাকাবাসী মিলে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাত্র।”
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম খোকন বলেন, “কাউকে সমাজচ্যুত করা বা মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি, মধ্যযুগীয় বর্বরতা এবং সংবিধানবিরোধী। ফারুক মিয়া একজন শ্রমজীবী মানুষ। অপরাধীর বিচার চাওয়ায় তাকে এভাবে হয়রানি করা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।”
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহাবুব মোরশেদ খান জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments