Image description

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার সংলগ্ন খাট্টা সাহাপুর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের প্রাচীর ধসে কেদার নাথ রায় (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কেদার নাথ ওই এলাকার বাসিন্দা এবং একটি জুট প্রেসের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাট্টা সাহাপুর এলাকায় সাবেক মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃত বায়েজিতের মেয়ে মোছা. রুমা দীর্ঘদিন ধরে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা বিধি ছাড়াই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার কাজ চালানো হচ্ছিল। সোমবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার একটি প্রাচীর হঠাৎ ধসে পাশের একটি টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা কেদার নাথ মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এলাকাবাসী জানায়, ভবনটি নির্মাণের শুরু থেকেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। এর আগে একই ভবন থেকে ইট পড়ে সোনাভান নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ভবনের বিম রাস্তার দিকে বেরিয়ে থাকায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। জননিরাপত্তা তোয়াক্কা না করে নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে স্থানীয় ভূমি অফিস।

নির্মাণাধীন জমি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। স্থানীয়দের দাবি, এই জমিটি একসময় বিহারি সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং বর্তমানে সরকারি গেজেটভুক্ত। প্রায় এক যুগ আগে মসজিদ কমিটির মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে জমিটি বায়েজিতের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত কেদার নাথের ছেলে রঞ্জন কুমার বলেন, "প্রতিবেশীর গাফিলতি আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় আজ আমার বাবাকে হারাতে হলো। এমন অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে বিচার চাই।" এ বিষয়ে ভবন মালিক মোছা. রুমা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর