Image description

ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম বড় জামাতকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদগাহের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন ১১০০ পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি নিরাপত্তার চাদরে মাঠ ঢেকে দিতে কাজ করবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরা।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবার শোলাকিয়ায় সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে মোট ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া র‍্যাবের ৬টি বিশেষ টিম (প্রতি টিমে ৬ জন), ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী এবং ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে মাঠে ৪টি শক্তিশালী ওয়াচটাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে, যার দুটি পুলিশ এবং দুটি র‍্যাব ব্যবহার করবে। পুরো ময়দান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়াও পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে।

ঈদের দিন মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মাঠে ১৩টি আর্চওয়ে গেট থাকবে। ২৮টি প্রবেশ পথে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পর মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধুমাত্র জায়নামাজ নিয়ে মাঠে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ছাতা, ব্যাগ বা অন্য কিছু বহন না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা থেকে আসবে বিশেষ বোম ডিসপোজাল টিম। মাঠে নিয়োজিত থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও ৬টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম। এছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ঈদের আগের দিন থেকেই শহরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষ নজরদারি চালাবে।

উল্লেখ্য, আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় শোলাকিয়া ময়দানে ঈদুল ফিতরের এই বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর