Image description

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রায় চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান ও মেলা উৎসব উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের এই অষ্টমী তিথিতে পাপমুক্তির আশায় দেশ-বিদেশের প্রায় ৩ লাখ পুণ্যার্থী এবার ব্রহ্মপুত্রের জলে পুণ্যস্নানে অংশ নেন।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে অষ্টমীর লগ্ন শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে শেষ হয়। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু করে সারাদিনব্যাপী নিজেদের সুবিধামতো সময়ে স্নান সম্পন্ন করেন। “হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, তুমি আমার পাপ হরণ করো”- এই মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুণ্যার্থীরা ব্রহ্মার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে স্নান সম্পন্ন করেন।

স্নানকে কেন্দ্র করে জোড়গাছ পুরাতন বাজার, চিলমারী বন্দরসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বিগত বছরের তুলনায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।

উৎসবের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আগত পুণ্যার্থীরা। রংপুরের তাজহাট থেকে আসা লাবনী রায় ও শ্রাবনী রানী জানান, এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশ খুব সুন্দর ছিল। বিশেষ করে যাতায়াতে যানজট না থাকায় এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে স্নান করতে পেরেছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ও সেবা মূলক প্রস্তুতি। পুণ্যার্থীদের জন্য ২৫টি স্থানে ৫০টি কাপড় পরিবর্তন বুথ, ৩০টি টিউবওয়েল ও ৩০টি টয়লেট স্থাপন করা হয়। পুরো মেলা এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “অষ্টমী স্নান নির্বিঘ্ন করতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ টহল এবং জরুরি প্রয়োজনে দুজন ডুবুরি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এবারের স্নান উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।”

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি কর্ণধর বর্মা এবং আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কুকিল মেম্বার জানান, প্রশাসনের তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এই ধর্মীয় মিলনমেলা সফল হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই স্নান উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর