স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য; মুক্তিযোদ্ধেদের তীব্র প্রতিবাদ
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক বক্তব্যকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে জমিয়তে উলামা ইসলামী দলের জেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ হক কাওসারী দাবি করেন, “মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান ছিল না, তিনি ভূয়া”—এমন মন্তব্যের পর উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেনসহ অন্যরা উচ্চস্বরে আপত্তি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উপস্থিতরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, “বঙ্গবন্ধু আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। তার নেতৃত্বেই আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আজ যারা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে, তারা কীভাবে এমন বক্তব্য দিতে পারে?” তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, এতে হলরুমের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাওলাদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ ফোরামের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান হস্তক্ষেপ করেন। পরে আব্দুল্লাহ হক কাওসারীকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী জেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে মন্তব্য করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের স্বাধীনতার স্থপতি, তাকে নিয়ে স্বাধীনতা দিবসে এ ধরনের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি কুট্টি সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব প্রতিবাদ জানান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সরদার আব্দুর রশিদ বলেন, “বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এসে তার অবদান অস্বীকার করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মাহত করার মতো বিষয়। আমি এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. শহীদ হাসান চৌধুরী উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় দিবসে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত।




Comments