Image description

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, পড়াশোনার চাপের কারণে অভিমানে সে এ পথ বেছে নেয়। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য খুঁজছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে হারবাঈদ নন্দীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত মারজিয়া আক্তার লাবণ্য (১৭) স্থানীয় হারবাইদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। সে একই এলাকার আফজাল হোসেনের মেয়ে।

পরিবার জানায়, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে লাবণ্যকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি বাড়ির কাজ, বিশেষ করে ছাগল দেখাশোনা কমিয়ে দিতে বলা হয়। এ বিষয়েই অভিমান থেকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।

নিহতের বাবা আফজাল হোসেন মানবকন্ঠকে বলেন, আমার মেয়ে সাইন্সের ছাত্রী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে তিনটি ছাগল দেখাশোনা করত। আমি ও আমার স্ত্রী তাকে বলেছিলাম, সামনে এসএসসি পরীক্ষা সে যেন পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়, ছাগলের কাছে না যায়। কিন্তু এমন কিছু করবে, তা আমরা ভাবিনি। সকালেও সে স্বাভাবিক ছিল।

কারও সাথে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার ৩টি মেয়ের মধ্যে ২ জনের বিয়ে হয়ে গেছে তাদের এ ধরনের কোনো রিপোর্ট ছিল না আমার ছোট মেয়ে তারও এ ধরনের কোনো রিপোর্ট নেই।

তবে স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।

লাশের সুরতহাল করে পূবাইল থানার (এসআই) মাহমুদ হাসান জনি  জানান, পোস্টমর্টেমে প্রেগন্যান্সি ধর্ষণ ও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পূবাইল থানার ওসি (তদন্ত) আবুবকর সিদ্দিক মানবকন্ঠকে জানান, পড়াশুনার জন্য চাপ দিয়েছে এমন একটি বিষয় আছে,তার পরেও আমরা লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়েছি। ভিকটিম যেখানে আত্মহত্যা করেছে সেই ঘরের পিছনে আরেকটি দরজা ছিল। সামনে দরজা থাকলে ঠিক আছে কিন্তু পিছনের সাইডে দরজা বিষয়টি ভিন্ন,যেহেতু ভিকটিম অল্প বয়েসের মেয়ে অবিবাহিত মেয়ে এখানে রাতে কিছু হয় কিনা, যেহেতু অবিবাহিত মেয়ে হঠাৎ করে কেন মারা যাবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কথা হচ্ছে একটি মেয়ের মৃত্যুর নূন্যতম কারণ থাকতে হবে। শুধু পড়ালেখার চাপ দিলেই যে একটা মেয়ে মারা যাবে আমাদের কাছে একটু অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এই জন্য আমরা পোস্টমর্টেম এর দিকে এগিয়েছি পোস্টমর্টেম এর রিপোর্ট আসলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।