Image description

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিয়ের আনন্দ শেষে নিহতদের বাড়ির উঠানে লাশ চলছে শোকের মাতম। উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে ঈদের ছুটিতে বড় ছেলে নাঈমের বিয়ে দিয়েছেন নার্গিস আক্তার। নতুন বউ ঘরে তোলার আনন্দে মুখর ছিল পুরোগ্রাম। 
কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজনসহ প্রতিবেশী আরও দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকেকাতর হয়ে উঠেছে।

নিহতরা হলেন, নিজপাড়া গ্রামের হামিদুজ্জামানের স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪২), তার ছোট ছেলে নীরব (১২), বড় ছেলে নাঈমের শাশুড়ি দোলা বেগম (৪৫) এবং প্রতিবেশী রিপা আক্তার (২২) ও সুলতান (৩২)।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে নার্গিস আক্তার বড় ছেলের বিয়ে আয়োজন করেন। নিজস্ব বাড়ি না থাকায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় ভাইয়ের বাড়িতে। শুক্রবার সকালে ছোট ছেলে নীরব ও শাশুড়ি দোলা বেগমসহ তিনি টাঙ্গাইলের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ধাপেরহাট থেকে তারা বনশ্রী পরিবহন নামের একটি বাসে ওঠেন। একই বাসে ছিলেন প্রতিবেশী রিপা ও সুলতানও। টাঙ্গাইলের কালিহাতি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বাসের জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। বাস থামার পর যাত্রীরা বাইরে নেমে রেললাইনের পাশে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নার্গিসসহ পাঁচজন ক্লান্ত হয়ে রেললাইনের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখন দ্রুতগামী একটি ট্রেন এসে পড়লে ঘটনাস্থলেই ট্রেনে কাটা পরে তারা প্রাণ হারান।

শনিবার সকালে নিহতদের মরদেহ নিজপাড়া গ্রামে পৌঁছেলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় পুরো গ্রাম ভারী হয়ে ওঠে। প্রিয়জনদের শেষ বিদায় দিতে গ্রামের মানুষদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মায়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বড় ছেলে নাঈম। বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। 

তিনি বলেন, যাওয়ার সময় মা বলেছিলেন, পরের বার এসে তোর জন্য একটা বাড়ি বানিয়ে দেব। মা তো ফিরলেন, কিন্তু লাশ হয়ে। 
নাঈম আরও জানান, কালিহাতি এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তার মা তাকে ফোনে জানিয়েছিলেন। তখন তিনি মাকে সাবধানে থাকতে বলে ফোন রাখেন। 

স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে নার্গিস টাঙ্গাইলে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছোট ছেলে নীরবকে সঙ্গে রেখে পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করছিলেন। স্বপ্ন ছিল কিছুটা স্বচ্ছল জীবন গড়ে তোলা। কিন্তু এক নিমেষে সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।

গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, নিজপাড়া গ্রামে একসঙ্গে এতগুলো মরদেহ আগে কখনো দেখা যায়নি। পাঁচজনের অকাল মৃত্যুতে পুরো ধাপেরহাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।