হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সংস্কার শেষ হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী জ্বালানি তেলভর্তি একটি মালবাহী ট্রেন বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা স্টেশন অতিক্রম করার সময় ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে ৪টি বগি রেললাইনের পাশে উল্টে যায় এবং একটি বগি পার্শ্ববর্তী ডোবায় পড়ে যায়। এর ফলে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাতেই আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর বগি থেকে চুইয়ে পড়া তেল সংগ্রহের জন্য স্থানীয়দের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সৈয়দ ইশতিয়াক মোরশেদ জানান, বিজিবি সদস্যরা নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও হারিকেন ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে, যা সরকারি সম্পদের অপচয় রোধে ভূমিকা রেখেছে।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, প্রতিটি বগিতে প্রায় ৩৯ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। দুটি বগি থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বাকিগুলো থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ তেল লোকসান হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ায় বড় ধরনের সিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেক যাত্রী টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পথে রওনা হন। রেল চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর বর্তমানে আটকা পড়া ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments