Image description

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ভিন্নধর্মী এক উদ্ভাবন দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দুই সহোদর। রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন তারা।

উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের রাধানগর বাজার এলাকার তরুণ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সোহেল শেখ ও জীবন শেখ গত ১৫ দিন ধরে এই ব্যতিক্রমী মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছেন। দীর্ঘ চার বছরের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি মেরামতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেরাই মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিনে পরিবর্তন এনে সেটিকে গ্যাসচালিত হিসেবে রূপান্তর করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ প্রক্রিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে একটি পরিবর্তিত কার্বোরেটরের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোটরসাইকেলটি এখন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর হয়ে চলছে। বর্তমানে বড় সিলিন্ডার ব্যবহার করা হলেও যাতায়াতের সুবিধার জন্য তারা ছোট ও বহনযোগ্য সিলিন্ডার ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।

উদ্ভাবক সোহেল ও জীবন শেখ বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যায় না। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতেই আমরা বিকল্প এই পথ খুঁজে বের করেছি।”

জীবন শেখ আরও জানান, “পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় গ্যাসে মোটরসাইকেল চালানো অনেক সাশ্রয়ী। এতে খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও আমরা ভালো ফল পাচ্ছি।” তবে মোটরসাইকেলের পেছনে বড় সিলিন্ডার বহন করা কিছুটা অসুবিধাজনক বলে স্বীকার করেন তারা।

এদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেলটি দেখতে ভিড় করছেন। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মো. জাবের আলী বলেন, “সিএনজিচালিত গাড়ি দেখেছি, কিন্তু রান্নার গ্যাসে মোটরসাইকেল চলা এই প্রথম দেখলাম। তবে এটি যদি কারিগরিভাবে নিরাপদ হয়, তবে বর্তমান সময়ে এটি দারুণ একটি বিকল্প হতে পারে।”

অন্যদিকে, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মোটরসাইকেলে ব্যবহার করাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। তারা জননিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের উদ্ভাবন ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর