Image description

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে  দীর্ঘদিন পলিথিনের তৈরি জরাজীর্ণ টুং ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় সাইফুল ইসলাম। এমনি একটি মানবেতর ঘটনা ঘটেছে তাড়াশ পৌরসভার ২ নং ওয়াডের সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায়। সাইফুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত ছবের আলীর ছেলে।

‎সরেজমিনে শনিবার বিকেলে গিয়ে জানা যায়, পলিথিন ও গাছের ডাল দিয়েই তৈরি মাত্র ৪ থেকে ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের একটি ছোট টুং ঘরেই দীর্ঘদিন ধরে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

অভাব-অনটনের তাড়নায় কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান। পরিবারে আরো দুটো সন্তান থাকলেও একটি প্রতিবন্ধী ছেলে যাকে নিয়ে তিনি বসবাস করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‎সন্তানের চিকিৎসা করাতে করাতে প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। বয়সের ভারে এখন আর তেমন কাজ করতে পারেন না সাইফুল ইসলাম। জীবিকার তাগিদে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জলাশয়ে মাছ ধরেই কোনোভাবে তার সংসার চলে। তার একমাত্র সম্পদ বলতে পলি দিয়ে মোড়ানো ছোট্ট একটি টুং ঘর ছাড়া আর কিছু নাই।

‎সম্প্রতি কয়েক দিন আগে হওয়া ঝড়ে তার ঘরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়েছে এখন হামাগুড়ি দিয়ে সেই টুং ঘরে প্রবেশ করতে হচ্ছে তাকে।

‎এ প্রতিবেদকের সাথে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথা বলেন সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রতিবেদক কে জানান, কি বলবো দুঃখের কথা গরীব হওয়ায় দুটি সন্তান রেখে ঘরের বউটাও চলে গেছে। সরকারি একটু জায়গা থাকলেও ঘর তৈরি করার সামর্থ্য টুকুও নাই। দিনমুজুরের কাজটাও এখন আর করতে পারছিনা শরীরে শক্তি নাই। বৃদ্ধ একটা মা আছে বাড়ি বাড়ি চেয়ে আনলে খাওয়া হয় আমাদের।

‎এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুশরাত জানান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত না খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আমরা তাকে সহযোগী করার চেষ্টা করবো। পাশা সে যদি লিখিত আবেদন করেন আমরা সরকারি বরাদ্দকৃত টিন দিয়ে ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করবো।