Image description

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ছোট বারইহাটি গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে এবং গফরগাঁও-বরমি আঞ্চলিক সড়কের জমি অবৈধভাবে খনন করে ফিশারী প্রজেক্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ছোটবারইহাটি গ্রামসহ আশেপাশের ৩/৪টি গ্রামের কয়েক’শ কৃষকের ফসলেল জমিতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজ ব্যহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বাশিয়া গ্রাম থেকে শুরু হওয়া কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ বৌমরা খালটি টাংগাব ইউনিয়নের পাঁচাহার, দা্ওয়াদাইর. নিগুয়ারি ইউনিয়নের সাধুয়া, ছোট বারইহাটি গ্রাম হয়ে চার্মুতা গ্রামের সুতিয়া নদীতে পতিত হয়েছে।অনেক জায়গায় এই খালটি শুকলাইন হিসেবেও পরিচিত। এই ৫/৬ গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক কৃষকের ফসলি জমির বর্ষার পানি এই খাল দিয়ে সুতিয়া নদীতে পতিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানি কৃষক তাদের ফসলি জমিতে সেচ কাজে ব্যবহার করে। বাঁধ দিয়ে খালটি ভরাট করে ফেলায় খালের দুই পারের হাজার হাজার কৃষক চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল)সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট বারইহাটি গ্রামের আ.লীগ কর্মী আবুল কাশেম ওরফে ভেকু কাশেম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে খাল ভরাট করেছেন ।এছাড়াও তিনি তার লোকজন দিয়ে গফরগাঁও-বরমী সড়কের ভূমি দখল করে খনন করেছেন গভীর পুকুর। আর দখল করে ভরাট করা খালকে বানিয়েছেন পুকুরের পাড়।

খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ছোট বারইহাটি গ্রামের কৃষক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য লিয়াকত আলী বলেন, বৌমরা খালের অন্তত ২০০ ফুট পযন্ত দখল করে মাটি ভরাট করে দখল করেছেন আবুল কাশেম। এছাড়াও তিনি দাবী করে বলেন, খালের পাশে থাকা তাদের অন্তত ১০ শতাংশ জমিও দখল করেছেন কাশেম গং।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান দাবী করে বলেন, বৌমরা ও শুকলাইন খাল দখল করে দেড় থেকে দুইশত ফুট ভরাট করেই ক্ষান্ত দেয়নি কাশেম। পাশেই গফরগাঁও-বরমী সড়কের অধিগ্রহণকৃত জমি দখল করে বানিয়েছেন বিশাল গভীর পুকুর। আর সেই পুকুরের পাড় বানিয়েছেন খাল ভরাটের অংশটুকুকে।

একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হুসেন আলী আবুল কাশেমকে ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে বলেন, খাল ভরাট করে ও অধিগ্রহণনের জমিতে অন্তত ৩০ ফুট গভীর করে পুকুর খনন করায় যেকোন সময় ধ্বসে যেতে পারে গফরগাঁও-বরমী সড়কের ওই অংশটুকু।

খোকন শেখ নামে স্থানীয় এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এ খাল দুটি দিয়ে হাজার হাজার কৃষকের পানি নিস্কাশন হয়। সেই খাল ভরাট করে পুকুরের পাড় তৈরি করেছেন কাশেম। এর ফলে বর্ষাকালে অতি বর্ষণে শত শত কৃষকের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত হতে পারে।

মোঃ আবুল কাশেম বলেন, তিনি কোন খাল দখল করেন নি। তিনি তার নিজের জায়গা ভরাট করেছেন । নিজের জায়গা খনন করে পুকুর তৈরি করেছেন।

স্থানীয় নিগুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন.এম আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।