Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা সদরের ‘আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে’ এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।

নিহত প্রসূতি রাকিবা আক্তার (১৮) উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রসবব্যথা শুরু হলে রাকিবাকে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অভিযোগ উঠেছে, অপারেশনের কিছুক্ষণ পরেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখে রোগীকে দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের কথা বলে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনে।

নিহতের মা রেহেনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ই সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি তাঁর কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখনই বুঝতে পারি, ভুল চিকিৎসায় অপারেশনের পরই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে চিকিৎসক ও স্টাফরা পালিয়ে যান।”

এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

নবীনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব কান্তি নাথ জানান, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতকদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর