পাইকগাছায় বিটিসিএলের ক্যাবল উধাও তদন্তে ধীরগতি, ধামাচাপা দেওয়ার আশঙ্কা
খুলনার পাইকগাছায় সড়ক সংস্কারের সুযোগে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল (ভূগর্ভস্থ তার) অপসারণ নিয়ে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শুরু হওয়া তদন্ত কার্যক্রম রহস্যজনকভাবে থমকে আছে, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কজুড়ে বিটিসিএল-এর আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল উত্তোলন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এসব ক্যাবল স্টোরে নথিভুক্ত করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রহণ-বিবরণী (রিসিভিং নোট) বা স্টোর রেজিস্টারে এন্ট্রি করা হয়নি। এমনকি স্ক্র্যাপ হিসেবে এগুলো নিলাম করার কোনো দাপ্তরিক দলিলও পাওয়া যায়নি। উত্তোলিত ক্যাবলের প্রকৃত পরিমাণ বা মান কত ছিল, সে বিষয়েও নেই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য।
এই অনিয়মের বিষয়ে দায়িত্বরত টেকনিশিয়ান মোখলেছুর রহমান দাবি করছেন, উত্তোলিত ক্যাবলগুলো স্টোরে সংরক্ষিত আছে। তবে এর স্বপক্ষে কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট লাইনম্যান আলেক গাজী এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
বিটিসিএলের খুলনা অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বেঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, উত্তোলিত সরকারি সম্পদ যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন না থাকা এবং নথিপত্রের অনুপস্থিতি দাপ্তরিক ব্যবস্থার বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ও স্বচ্ছতার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এতো বড় অংকের সরকারি সম্পদ গায়েব হওয়ার উপক্রম হলেও এখনো কোনো কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠন বা নিরপেক্ষ অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
সুশাসন ও সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। ১০ লাখ টাকার সরকারি সম্পদের সঠিক হিসাব জনসমক্ষে আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments