ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জ্বালানি তেল সংকট মোকাবেলায় সরকারি ভাবে আনা তেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
জ্বালানি তেল সংকট মোকাবেলায় বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষক ও জমি চাষের ট্রাক্টর চালকদের মাঝে কৃষি কার্ডের অনুকূলে জ্বালানি তেল বিতরণের জন্য জ্বালানি তেল অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রচেষ্টায় ডিপো থেকে ২২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ডিজেল বিভিন্ন ইউনিয়নে পৌঁছে দেওয়ার সময় তা কৌশলে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
তবে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এটাকে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সৃষ্ট একটি অপ্রীতিকর ঘটনা বলে দাবি করেছেন। অপরদিকে বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, এটি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জামায়াতের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়—মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের মুজুরদিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে ৮টি ব্যারেলে ২ হাজার লিটার ডিজেল নামান সাতৈর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা শফিক আহমেদ। যা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ হওয়ার কথা ছিল। ওই জামায়াত নেতা ইউনিয়নের নামে বরাদ্দকৃত তেল পাচার করে সংকট আরও ঘনীভূত করতে কৌশলে তেলটি ছিনতাই করেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহের কারণে সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর কতিপয় নেতৃবৃন্দ। আমার ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত তেল ছিনতাই করে নিয়েছিল জামায়াত নেতা শফিক। তিনি পার্শ্ববর্তী দাদপুর ইউনিয়নের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। খবর পেয়ে আমি ও ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা খন্দকার নাজিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে—ডিজেল ছিনতাই নয়, ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী দাবি করেন—কৃষকদের চাষাবাদে জ্বালানি তেল সংকট মোকাবেলায় আমি বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করি।
ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন। পরে এর সাথে যোগ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান। আমাদের আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল এই ডিজেল কিভাবে ও কাদের মাধ্যমে বিতরণ করব। সে অনুযায়ী সাতৈর ইউনিয়নে দুইজন প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। গতকাল সোমবার হঠাৎ উপজেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত দেয় ডিজেল কৃষি কার্ডের বিপরীতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিতরণ করা হবে। সমস্যা হয়েছে, আমার মোবাইল বন্ধ থাকায় শফিক সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তেলটি নামান। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তিনি তেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বুঝিয়ে দেন।
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুণবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন; বর্তমান বিএনপি সরকারকে বিপাকে ফেলতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করছে না। সাতৈরে নিজেরা তেল চুরি করে উল্টো আমাদের নামে অপপ্রচার করছে, যা ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমার ইউনিয়ন পরিষদে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে তেল দেওয়া এখনও চলমান, যা ইউএনও মহোদয়, কৃষি কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে দেখে গেছেন। অথচ তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে আমরা সঠিকভাবে তেল বিতরণ করছি না।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন; আমরা সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বোয়ালমারীতে ২২ হাজার ৫০০ লিটার তেল আনতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে স্থানীয় একজন সচিব, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দদের সাথে আমিও বিভিন্ন স্থানে কথা বলেছি। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় প্রকৃত কৃষক ও ট্রাক্টর চিহ্নিত করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংকট মোকাবেলায় এ ধারা অব্যাহত থাকবে।




Comments