Image description

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বারবার স্থান পরিবর্তনের নাটকীয়তা শেষে অবশেষে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের সরকারি অনুমোদন মিলেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত অনুমোদনপত্র জারি হওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার বইছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় কেশবপুরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যশোর সদর ও মণিরামপুরসহ পাশের জেলা-উপজেলাগুলোতে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও কেশবপুরে এটি ঝুলে ছিল।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে গাজীর মোড়, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা ও কেশবপুর ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থান প্রস্তাব করা হলেও সমন্বয়হীনতা ও পূর্ববর্তী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যশোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাসেমের নিরলস প্রচেষ্টায় এই স্থবিরতা দূর হয়েছে। তিনি মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও নথিপত্র হালনাগাদ করার মাধ্যমে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন ত্বরান্বিত করেন।

অনুমোদনের বিষয়ে উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাসেম বলেন, “কেশবপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। নানা জটিলতা পেরিয়ে এই অনুমোদন পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি স্থাপনা হবে না, বরং ধর্মীয় শিক্ষা, গবেষণা ও সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”

আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হতে যাওয়া এই বহুতল ভবনে থাকবে প্রশস্ত নামাজের স্থান, নারী ও পুরুষদের পৃথক অজু ও নামাজখানা, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হিফজ ও নূরানী শিক্ষা বিভাগ, গবেষণাগার ও দাফন-কাফন প্রস্তুতির বিশেষ কক্ষ। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আসা মেহমানদের জন্য আবাসন সুবিধা ও প্রতিবন্ধীবান্ধব র‍্যাম্পের ব্যবস্থাও থাকবে এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে।

সচেতন মহলের মতে, মডেল মসজিদটি নির্মিত হলে তরুণ প্রজন্ম সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম পাবে। বর্তমানে কেশবপুরবাসী দ্রুত এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর