ধনবাড়ীতে মেলার নামে জুয়ার আসর, প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে পণ্ড
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজানের পঞ্চাশী বটতলা বাজারে বৈশাখী মেলার নামে চলা অবৈধ জুয়ার আসর ও অশ্লীল নৃত্যের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ধনবাড়ী উপজেলা ও থানা প্রশাসন যৌথভাবে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের পঞ্চাশী বটতলা বাজারে কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে মেলাটি পরিচালনা করছিলেন বানিয়াজান ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান স্বপন, বিএনপি নেতা সোহেল রানা, ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ও সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম দুলাল প্রামাণিকসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। মেলায় নাটকের নামে রাতভর অশ্লীল নৃত্য, লটারি ও বড় আকারের জুয়ার আসর বসানো হয়েছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু পঞ্চাশী বটতলা নয়, একই কায়দায় কেন্দুয়া, রাজার হাট ও কেরামজানি এলাকাতেও অবৈধভাবে মেলা চলছিল। এসব মেলায় রাতভর উচ্চশব্দে গান-বাজনা ও মাদকের বেচা-কেনা চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন এসএসসি ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীরা।
অভিযোগ পেয়ে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ নূরজাহান আক্তার সাথী ও ধনবাড়ী থানার ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে আয়োজক ও জুয়াড়িরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ জুয়ার আসর ভেঙে দেয় এবং মেলার মালামাল জব্দ করে মেলা পণ্ড করে দেয়।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী মেলার আয়োজক হিসেবে নিজের নাম আসার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "মেলা কমিটিতে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা আমি অবগত নই। আমি সব সময় এ ধরনের অনৈতিক কাজের বিরোধী।"
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরজাহান আক্তার সাথী জানান, অসংগতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ামাত্রই অভিযান চালিয়ে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিকী জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মেলা কমিটির লোকজন পালিয়ে গেছে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments